লক্ষ্মীপুর–নাটোর–চুয়াডাঙ্গা ঘুরে অনুসন্ধান
নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়, একাধিক বিয়ে, পরিচয় গোপন, প্রতারণা-আর সর্বশেষ এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে তাকে নিয়ে পালানোর অভিযোগ। দেশের তিন জেলার বিস্তৃত পরকীয়া প্রেমিক মোস্তাফিজুর রহমানের এই ঘটনাপ্রবাহ এখন প্রশ্ন তুলছে- কতটা শক্তিশালী এই প্রতারণার নেটওয়ার্ক?
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের প্রবাসী মো. কাউছার হোসেন তানভীর (৩১) অভিযোগ করেন, দীর্ঘ চার বছর সৌদি আরবে কর্মরত থাকার সময় তার সংসারে ভাঙন ধরানো হয় পরিকল্পিতভাবে। দেশে এসে বিয়ে করার পর স্ত্রীর উচ্চশিক্ষার জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠালেও, সেই বিশ্বাসই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ভুক্তভোগীর দাবি, তার স্ত্রী নারজিস নাজমুন নাহার রাজশাহীতে পড়াশোনার সময় তার বড় বোনের স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ওই ব্যক্তি একাধিক নারীকে বিয়ে করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন পরিচয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার পর আর্থিক ও মানসিকভাবে শোষণের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী নারী।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি অন্তত পাঁচটি বিয়ে করেছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্বের বিয়ের তথ্য গোপন রাখার অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কয়েক মাস, কোথাও কয়েক বছর সংসার করার পর সম্পর্ক ভেঙে যায়- কখনো অর্থ লেনদেন, কখনো প্রতারণার অভিযোগে।
এক ভুক্তভোগী জানান, “বিয়ের আগে তার আগের সংসারের কথা কিছুই জানতাম না। পরে জানতে পেরে আর কিছু করার ছিল না।”
কাউছার হোসেনের অভিযোগ, প্রবাসে থাকা অবস্থায় বিভিন্ন কৌশলে তার স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। এমনকি নিজের রেজিস্ট্রেশন করা সিম ব্যবহার করে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করা হয়।
এক পর্যায়ে ভয়ভীতি ও চাপ প্রয়োগ করে তার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে তালাক দিতে বাধ্য করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, তাকে দুর্বল করতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় তিনি ইতোমধ্যে খালাস পেয়েছেন, তবে আরও দুটি মামলা বিচারাধীন।
আইনজীবীদের মতে, “এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে আইনি চাপে ফেলে কোণঠাসা করা একটি সাধারণ কৌশল হতে পারে”- যদিও বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন।
দেশে ফেরার পরও হুমকি পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন কাউছার। তার ভাষায়, “নিজেকে সেনা কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে সে এখনো আমাকে ভয় দেখাচ্ছে। আমি দেশে থেকেও নিরাপদ নই।”
এ ঘটনায় এখনো কোনো দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

