লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কুচিয়ামোড়া, ফিশারীঘাট ও নতুনব্রীজ এলাকা নিয়ে গঠিত জেলেপল্লী গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বাঁশের সাঁকো। গ্রামজুড়ে রয়েছে প্রায় ২০টি সাঁকো, যা দিয়েই নিত্যদিন চলাচল করতে হচ্ছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। বিদ্যালয়গামী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ সবাইকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব সাঁকো পার হতে হচ্ছে।
উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত চরবংশী বেড়িবাঁধ গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসবাস এই গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ জেলে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।
গ্রামটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুদীর্ঘ ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল নামে পরিচিত। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এই খালই গ্রামটিকে আশপাশের অন্যান্য গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। খালের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন অসংখ্য বাঁশের সাঁকো। অধিকাংশ পরিবারেরই রয়েছে ব্যক্তিগত নৌকা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
উপজেলার উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত চরবংশী বেড়িবাঁধ গ্রাম। উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। প্রায় ২ হাজার পরিবারের বসবাস এই গ্রামে জনসংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। গ্রামটির অধিকাংশ মানুষ জেলে এবং কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত।
গ্রামটির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে সুদীর্ঘ ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খাল নামে পরিচিত। খালটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। এই খালই গ্রামটিকে আশপাশের অন্যান্য গ্রাম থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। খালের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য গ্রামবাসী নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করেছেন অসংখ্য বাঁশের সাঁকো। অধিকাংশ পরিবারেরই রয়েছে ব্যক্তিগত নৌকা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী একটি স্থায়ী সেতুর দাবি জানিয়ে এলেও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, চরবংশী খাসেরহাট বাজার বেড়িবাঁধ মেইন রাস্তা থেকে খালের অন্য পাশে যাতায়াতের জন্য যে কোনো একটি স্থানে সেতু নির্মাণ করা হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হতো। কৃষিপণ্য মাঠ থেকে তুলে মূল সড়কে আনতে গিয়ে কৃষকদের সীমাহীন কষ্ট করতে হয়।
চরকাছিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও কলেজছাত্র আক্তার হোসেন ও মো. মালেক বলেন, ‘একটি সেতুর অভাবে আমাদের প্রতিদিন সীমাহীন কষ্ট করতে হয়। বিশেষ করে বর্ষাকালে চলাচল আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।’
এ বিষয়ে চরবংশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও চমকাবাজার গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সোবহান বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৈরি করা ৩০-৩৫টি বাঁশের সাঁকো রয়েছে, কিন্তু ২-১টি ছাড়া বাকিগুলোতে পাকা ব্রিজ নেই। কুচিয়ামোড়া, নতুন ব্রিজ, ফিশারিঘাট, চরঘাসিয়া, চরইন্দ্রুরিয়া ও চান্দারখাল এলাকা স্কুলপড়ুয়া শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যাতায়াত করছে। সাঁকো দিয়ে পরিবারের জন্য মালামাল আনা-নেওয়াও খুব কষ্টকর।’
উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের প্রশাসক নিগার সুলতানা বলেন, ‘এ গ্রামে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণ হলে কৃষক ও জেলেদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর হবে। এ জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।’
রায়পুর উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলি সুমন মুন্সি বলেন, উত্তর চরবংশী ইউপির খাসেরহাট বাজারে আশেপাশে কয়েকটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেটে পাশ হলেই কাজ করা যাবে।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের চারবারের এমপি আবুল খায়ের ভুঁইয়া বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় উন্নয়ন করে থাকে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় কমপক্ষে কয়েকটি ব্রিজ করার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করব।

