ঢাকারবিবার , ২৪ আগস্ট ২০২৫
  1. আজ দেশজুড়ে
  2. আজকের সর্বশেষ
  3. আন্তর্জাতিক
  4. কমলনগর
  5. কলাম
  6. কৃষি সংবাদ
  7. খেলাধুলা
  8. গণমাধ্যম
  9. গ্রামীণ সাংবাদিকতা
  10. চাকরির খবর
  11. জাতীয়
  12. জীবনযাপন
  13. তারুণ্য
  14. দুর্ভোগ
  15. ফিচার

ইমরানের চোখে স্বপ্ন দেখে জনপদ

protidineralo
আগস্ট ২৪, ২০২৫ ২:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জিহাদ হোসেন রাহাতঃ ছুটির দিনে গাছ লাগানো, বাগান করা, প্রিয় বইয়ের পাতায় হারিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মীয়-স্বজনকে সময় দেওয়া, এসবই তার নেশা। কিন্তু পেশার মঞ্চে তিনি একদম ভিন্ন এক মানুষ। আজ একজন চোয়ালবদ্ধ সাহসী ও জনগণের প্রতি অদম্য দায়বোধ আর নীতি-আদর্শে অটল থাকা প্রশাসকের গল্প থাকছে পাঠকদের জন্য।

১৯৯০ সালের ২০ অক্টোবর সিরাজগঞ্জ সদরের খোকসাবাড়ি ইউনিয়নের গুনেরগাতি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন মোঃ ইমরান খাঁন। বাবা আবদুল খালেক খাঁন ও মা শামসুন্নাহার খাঁনের একমাত্র ছেলে তিনি। তার ভালো নাম থাকলেও বাবা মায়ের দেওয়া আদুরে নাম, সম্পদ। এ নামেই অনেকে চেনেন তাকে। ইমরান ও তার বড়বোন পরিবারের নয়নমণি। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অসম্ভব মেধাবী ছিলেন ইমরান। 

স্কুলজীবনে একের পর এক গড়েছেন কৃতিত্বের ইতিহাস। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকার এ একে উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ পেয়ে বিজ্ঞান বিভাগে উত্তীর্ণ হন। তখন সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন ঢাকা বোর্ডে। পেয়েছেন একাধিক বৃত্তি। অবশ্য এসএসসিতে পড়াকালীন সময়ে এইচএসসির বই নিজের সংগ্রহে রাখতে শুরু করেন তিনি।

পরে ২০০৭ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে একই বিভাগে গোল্ডেন জিপিএ পাঁচ পেয়ে এইচএসসি পাস করে ইঞ্জিনিয়ার মামার অনুপ্রেরণার পথে হাঁটতে শুরু করেন ইমরান। ভর্তি হন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইওটি-তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও পেয়েছিলেন সুযোগ, কিন্তু প্রকৌশলের প্রতি অনুরাগ তাকে বেঁধে রাখে বুয়েটেই।

 

বুয়েটজীবন কেবল পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ ছিল না ইমরানের। দ্বিতীয় বর্ষে পড়াকালীন সময়ে নিজের উদ্যোগে চালিয়েছেন একটি কোচিং সেন্টার, সেখানে অর্জিত নেতৃত্বগুণ ও উদ্যোক্তা মানসিকতার এই বীজই পরবর্তী জীবনে প্রশাসনিক দায়িত্বের ক্ষেত্রে কাজে লেগেছে তার।

স্বপ্নবাজ এই তরুণ ২০১১ সালের অক্টোবরে বুয়েট থেকে শেষ করেন গ্র্যাজুয়েশন। এরপর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় তিন বছর করেছেন চাকরি। চাকরির ফাঁকেই শুরু হয় তার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্ট্যাটিজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে এমবিএ।

এর মাঝেই সহকর্মীদের পরামর্শে ২০১৪ সালে শুরু করেন বিসিএস প্রস্তুতি। ৩৪তম বিসিএসে প্রথম সুযোগ পান শ্রম মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহকারী এআইজি হিসেবে। তবে যোগদান করার আগে দিয়ে দেয় ৩৫ তম বিসিএসের ফলাফল। সেটিতেই শুরু হয় তার বিসিএস যাত্রা। 

পরে চাকরি সুবাদে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। একপর্যায়ে ২০২০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়ন হয় তার। ২০২২ সালে মাদারীপুরের কালকিনিতে হয় একই পদে বদলি।

পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিজের দক্ষতা উন্নয়নে একের পর এক অর্জন রয়েছে তার। তিনি ই-গভর্ন্যান্স ও পাবলিক পলিসির উপর কোর্স করেছেন থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে । ২০২৩ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরেকটি স্কলারশিপে এমবিএ পড়তে যান ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব এবারডিনে। একবছরের বিদেশ যাত্রা শেষে ২০২৪ সালে দেশে ফেরেন তিনি। ওই বছরের ২৭ মার্চ থেকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই কর্মকর্তা। 

২০২৪ সালের বন্যায় লক্ষ্মীপুরের ওই উপজেলায় রেখেছেন দৃশ্যমান ভূমিকা। করেছেন সরকারি সহায়তা সামগ্রীর সুষম বণ্টন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাশাপাশি রায়পুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্বও রয়েছে তার কাঁধে। ছোটোবেলা থেকে স্বপ্নবাজ এই কর্মকর্তার চোখে এখন স্বপ্ন দেখেন ওই উপজেলার প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকার দরুন মনে হয়, তার চোখে স্বপ্ন দেখে জনপদটি।

পারিবারিক জীবনেও তিনি সফল মানুষ। ২০১৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ইমরান বর্তমানে চার বছর বয়সী এক পুত্রসন্তানের জনক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।